উপদেষ্টার বানী

এস.এম. ইব্রাহিম হোসাইন, ACII (UK)

উপদেষ্টা
বাংলাদেশের বীমা শিল্পকে এগিয়ে নিতে হলে জনসচেতনতা সৃষ্টির বিকল্প নেই। বর্তমান সরকার এ খাতের উন্নয়নের জন্য জাতীয় বীমা দিবস উদযাপন, বীমা মেলা আয়োজন, বীমা খাতে অটোমেশন ব্যবস্থা চালু করেছে। এর পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সকলে যদি বীমা সচেতনার জন্য যার যার অবস্থান থেকে প্রচারণা কার্যক্রম চালায়, তাহলে সকলকে বীমা সচেতন করা সম্ভব। একইভাবে বীমা সোসাইটি তাদের যে সকল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য স্থির করেছে যদি সেগুলো বাস্তবায়নে তারা কাজ করে তা হলে ব্যাপক ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। আমি লক্ষ্য করেছি যে, এই সোসাইটি ইতিমধ্যে অগ্রগতি অনলাইন টিভি’র মাধ্যমে বীমা বিষয়ক ফেসবুক লাইভ টকশো ‘ইন্স্যুরেন্স ক্যারিয়ার আলাপন’ ও ইউটিউবে ‘বীমা জিজ্ঞাসা’ কার্যক্রম চালু করেছে যা দিন দিন জনপ্রিয় হচ্ছে। বীমা শিল্পের প্রথিতযশা ব্যক্তিবর্গ এ শিল্পের অগ্রগতি, ভবিষ্যৎ নিয়ে টকশোতে আলোচনা করে থাকেন এবং বীমা জিজ্ঞাসা পর্বে বীমা বিষয়ক অজানা প্রশ্নের উত্তর প্রদান করা হয়। COVID-19 পরিস্থিতিতে এটি খুব গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম যা বীমা কর্মীদের জ্ঞান ও দক্ষতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এছাড়া জনসচেতনতা সৃষ্টিতে এটি অনবদ্য ভূমিকা রাখতে শুরু করছে। ইংরেজীতে একটি কথা আছে Morning shows the day অর্থাৎ সকালেই বুঝা যায় সারাদিন কেমন যাবে। বীমা সোসাইটির প্রারম্ভিক কার্যাবলী সকলকে মুগ্ধ করেছে। আশা করি, দিন দিন এর কার্যক্রম শানিত ও বিস্তৃত হবে। ইতিমধ্যে এ সোসাইটির সদস্য সংখ্যা দ্রুত গতিতে বৃদ্ধি পেতে শুরু করেছে। এ সোসাইটিকে আধুনিক ডিজিটাল সমিতি বলা যায় কেননা এদের একেকজন দেশের বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন বীমা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত অথচ অনলাইন যোগাযোগে তাদের লেখালেখি ও সম্পাদনা কার্যক্রম চালাচ্ছে। ইংরেজীতে একটি কথা আছে, Living together is success and working together is progress. বীমা সোসাইটি যদি এভাবে একসঙ্গে কাজ করে , তাহলে তাদের ভবিষ্যৎ নিশ্চিতভাবে ভাল হবে। লক্ষ্য রাখতে হবে যেন ব্যক্তিস্বার্থ প্রধান্য না পায়, তাহলে ভাঙ্গন ধরবে না। প্রতিদিনের সোসাইটি কার্যক্রমে নতুনত্ব ও সৃষ্টিশীলতা (Innovation) থাকতে হবে। মানুষ নতুনত্ব ভালবাসে। প্রতিদিনের নতুন সূর্য রশ্মি অয়নকে মানুষ পছন্দ করে। বীমা সোসাইটিকেও প্রতিদিন নতুন ভাবে উপস্থাপিত হতে হবে। উন্নত বিশ্বে বীমার অবদান উল্লেখযোগ্য। এ দেশে বীমার অপার সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হবে। আমি আশাবাদী বীমা সোসাইটি হবে একদিন সকলের মুখে উচ্চারিত একটি নাম, একটি ব্র্যান্ড যারা সকল কার্যক্রমে ইতিবাচক চিন্তার প্রতিফলন ঘটায়। এ সোসাইটি প্রতিনিয়ত নিজেরা অনুপ্রাণিত থাকবে এবং অন্যদের অনুপ্রাণিত করবে। ফুল আপনার জন্য ফুটেনা পরের জন্য কুসুম তোমার হৃদয়কে প্রস্ফুটিত করিও। এ কথার অনুকরনে বীমা সোসাইটি যেন বীমা শিল্পের কল্যাণে নিজেদেরকে ব্রতী করে, সেটাই এ সোসাইটির স্বার্থকতা হবে। ত্যাগী হলে এ সোসাইটির উদ্দেশ্য সফল হবেই। আশা করি, এই সোসাইটির সদস্যরা প্রতিদিন ভাল কিছুর সাথে যুক্ত থাকবে। যেমন কারও কল্যাণ করা, ভাল ১টা বই পড়া, ভাল ১টা কাজ করা, ভালো মানুষের সংস্পর্শে আসা, প্রশিক্ষণ/সেমিনার যুক্ত থাকা ইত্যাদি। অর্থাৎ সৎ জীবনযাপন করা কেননা অসৎ মানুষের জীবনে শান্তি থাকে না। সৃষ্টিশীলতার মধ্যে থাকার আনন্দটাই –আলাদা। কামিনী রায়ের কবিতার দুইটা লাইন ‘আপনারে লয়ে বিব্রত রহিতে আসে নাই কেহ অবনী পরে, সকলের তরে সকলে আমরা প্রত্যেকে মোরা পরের তরে।’ - ভাল কাজ অক্সিজেনের ন্যায় কাজ করে। অক্সিজেন হলে যেমন বাঁচা যায় তেমনি ভাল কাজ করলে তার আনন্দে বাঁচতে ইচ্ছে করবে। বীমা সোসাইটির সদস্যরা যেন অন্যদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয় যেন অন্যদের আলোকিত করে, যেন সাময়িক মোহাবিষ্ট না করে তা হলে ‘বীমা সোসাইটি’ ইতিবাচক ও ব্যাতিক্রমি হিসেবে সকলের নিকট ঠাই করে নেবে। সঠিকভাবে মনস্থির করে হাল ছেড়ে না দিয়ে বীমা সোসাইটি আত্নবিশ্বাসের সাথে ঠান্ডা মাথায় এগিয়ে যাক বীমা সোসাইটি এই প্রত্যাশা করি। এস.এম. ইব্রাহিম হোসাইন, ACII (UK) প্রধান অনুষদ সদস্য বাংলাদেশ ইনসিওরেন্স একাডেমি।